ডেজার্ট

গুঁড়োদুধের মালাই চমচম মিষ্টির রেসিপি |

গুঁড়োদুধের মালাই চমচম মিষ্টির রেসিপি

আমার  আজকের রেসিপি ”গুঁড়োদুধ দিয়ে তৈরী মালাই চমচম ” ….আমাদের দেশি  মিষ্টিগুলো সাধারণত ছানা দিয়েই তৈরী হয় বেশি। তবে আজকাল মিষ্টিরদোকান গুলোতে গুঁড়োদুধ দিয়ে অনেক মজার মজার মিষ্টি  বানানো হয়। যেমন কালোজাম, ল্যাংচা, মালাই চপ বা চমচম, বরফি ইত্যাদি। গুঁড়োদুধ দিয়ে মিষ্টি বানানোর সুবিধা হলো , ঝটপট হয়ে যায় আর নিরাশ হতে হয় কম , মানে মিষ্টি ঠিকঠাক হয় সহজেই। চলুন আজ গুঁড়োদুধ দিয়ে মজাদার মালাই চমচম বানিয়ে ফেলা যাক।

উপকরণ :


মালাইয়ের জন্য :

  • ফুলক্রিম দুধ – ১ লিটার / ৪ কাপ

মিষ্টির ডো তৈরিতে :

  • ফুলক্রিম গুঁড়া দুধ  – ১ কাপ
  • বেকিং পাউডার – ১/২ চা চামচ
  • ঘি/ তেল – ১ টেবিল চামচ
  • ফেটানো ডিম্ – ১/৩ কাপ
  • এলাচ গুঁড়ো – ১ চিমটি (ঐচ্ছিক)

দুধের সিরার জন্য :

  • ফুলক্রিম দুধ – ২ কাপ
  • চিনি – ১/২ কাপ

প্রণালী :


১।  প্রথমে মালাই তৈরী করে নিতে হবে।  এজন্য একটা পাত্রে ১ লিটার দুধ জ্বাল করে ঘন করতে হবে।  ১ লিটারে ৪ কাপ দুধ হয় , এই ৪ কাপ দুধকে জ্বাল করে ১ কাপের মতো করে ফেলতে হবে। এটাই আমাদের মালাই, হয়ে গেলে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে।


২। এবার একটা বাটিতে গুঁড়ো দুধ আর  বেকিং পাউডার একসাথে মিলিয়ে নিয়ে তাতে ঘি দিয়ে আবারো ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে যাতে দানা না বেঁধে থাকে।  তারপর এতে ফেটানো ডিম্ দিয়ে মেখে একটা নরম খামির বানিয়ে নিতে হবে। আপনি চাইলে ডিমের বদলে সমপরিমাণ দুধ নিতে পারেন।


৩। খামিরটাকে ১ থেকে দেড় মিনিট একটু খোলা অবস্থায় রেখে দিলেই এর নরম আর আঠালো ভাবটা কেটে যাবে।  তখন হাতে খুব সামান্য তেল বা ঘি মেখে নিয়ে আপনার পছন্দ মতো মিষ্টির শেপ দিয়ে নিন। আমি লম্বাটে শেপ দিয়েছি।  মনে রাখবেন, জ্বাল দেয়ার পর এটা সাইজে ডাবল হয়ে যাবে , তাই আপনার কাঙ্খিত সাইজ থেকে ছোট করে এটাকে শেপ দিতে হবে। আমি টোটাল ৮ টা লম্বা চমচমের শেপ দিয়েছি।


৪।  এবার একটা হাড়িতে বাকি আধা লিটার মানে ২ কাপ  দুধ আর ১/২ কাপ চিনি একসাথে মিডিয়াম হাই হিটে জ্বাল করে একটা বলোক তুলে নিন।  দুধে বলোক আসার সাথে সাথেই বানিয়ে রাখা মিষ্টিগুলো এতে দিয়ে দিন আর ঢেকে জ্বাল করুন ৫/৭ মিনিট।  এ সময় চুলার আঁচ মিডিয়ামে থাকবে। মাঝে মাঝে হাতলটা ধরে দুলিয়ে দিতে পারেন। আর যদি দেখেন দুধ উতলে আসছে তাহলে ঢাকনা একটু ফাঁকা করে দিলেই হবে।


৫।  ৬ মিনিট পরে আমি ঢাকনাটা সরিয়ে নিবো আর ঢাকনা ছাড়াই মিডিয়াম আঁচে এটাকে আরো ১০ মিনিট জ্বাল করবো যাতে মিষ্টি ঠিকমতো কুক  হয়। এসময়ে আপনি চাইলে আলতো করে এগুলোকে নেড়ে দিতে পারেন বা সাবধানে উল্টে দিবেন। মিষ্টিগুলো বেশ নরম থাকবে তাই উল্টানোর কাজটা সাবধানেই করতে হবে।  


৬। ১০ মিনিট জ্বাল করার পর , সেই আগে থেকে বানিয়ে রাখা মালাই এতে ঢেলে দিন আর মিডিয়াম আঁচে একবার বলোক তুলে নিন।  হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন। তারপর ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন। চাইলে ওপর দিয়ে বাদামকুচি আর স্যাফরন ছড়িয়ে দিয়ে পারেন।  

টিপস :


১।  মালাই তৈরিতে এবং  দুধের সিরা তৈরিতে ফুলক্রিম মিল্ক নিলে স্বাদ বেশি ভালো আসবে।


২।   ভালো মানের ফুলক্রিম মিল্ক পাউডার না হলে মিষ্টি ভালো হবে না।  আমি নেসলে নিডো ব্যবহার করেছি।


৩।  ডিমের বদলে সমপরিমাণ দুধ ব্যবহার করতে পারেন।  সেটা কাঁচা আর নরমাল তাপমাত্রায় হলেই হবে। তবে যেটাই নেন না কেন ১ কাপ গুঁড়ো দুধের জন্য ১/৩ কাপ লিকুইড আপনাকে দিতে হবে।


৪।  যদি মনে করেন ডিমের গন্ধ আসবে মিষ্টিতে (যদিও আসে না ) তাহলে চিমটি পরিমান ছোট  এলাচ গুঁড়ো অ্যাড করে নিবেন খামির মাখানোর সময়।


৫।  যে হাড়িতে মিষ্টি বানাবেন সেটা যেন একটু ছড়ানো  হয় এটা খেয়াল রাখবেন , এতে মিষ্টিগুলো ঠিকমতো ফুলতে পারবে।


৬।   কখনোই ঘন দুধে মিষ্টি ফুটাতে যাবেন না , এতে মিষ্টির ভেতরে কাঁচা থেকে যাবে।  একটা বলোক আসলেই দুধের সীরাতে মিষ্টি দিয়ে দিবেন।


৭।  আমি ১/২ কাপ চিনি দিয়েছি আপনি মিষ্টি বেশি খেলে ৩/৪ কাপ বা ম্যাক্সিমাম ১ কাপ চিনি দিতে পারেন


Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close
Close