আনুষ্ঠানিক রেসিপিঈদ স্পেশাল রেসিপিচিকেনদুপুরের খাবারবিয়ে বাড়ি রেসিপিমাংসমেনুরাইস ডিশরাতের খাবারসেহেরি ও ইফতার রেসিপি

বিয়ে বাড়ি স্পেশাল চিকেন রোস্ট

ছুটির দিন বলেন , অতিথি আপ্যায়নে বা যে কোনো অনুষ্ঠানে মোটামুটি আমরা সবাই চিকেনের একটা না একটা পদ করেই থাকি। আর বেশির ভাগ সময় ই সেটা হয় রোস্ট। অনেক যত্ন নিয়ে রান্নার পর ও কেন যেন রোস্ট এ বিয়ে বাড়ির রোস্টের মত সেই আমেজ টা থাকে না। আর তাছাড়া দেশের বাইরে আমরা তো দেশী মুরগি ও পাই না ..তাই রোস্ট আর রোস্ট হয় না। তবে আবার এই রেসিপিতে একবার করেই দেখুন ফার্মের মুরগীতেও আপনি আপনার কাঙ্খিত সেই স্বাদ-গন্ধ-বর্ণ খুঁজে পাবেন। আমি আমাদের তিনজনের জন্য অল্প করে করেছিলাম সেভাবেই রেসিপিটি লিখেছি তবে আপনারা মাংস বেশি হলে অনান্য উপাদান ও সেভাবে বাড়িয়ে নিবেন। চলুন দেরী না করে একবার দেখে নেই।

উপকরণ :


  • থাই সহ চিকেন লেগ ২/৩ টি (দেশী মুরগি হলে বেশি ভালো )
  • লেবুর রস ১ চা চামচ
  • লবন ১/৪ চা চামচ
  • তেল ১/২ কাপ
  • পেঁয়াজ কুচি ২ কাপ
  • মিষ্টি দই ১/৪ কাপ (টক দই হলে ২ টে চামচ চিনি দিয়ে নিবেন )
  • কাজু বাদাম বাটা ৮-১০ টি
  • ময়দা ১ চিমটি (এতে দই এ জ্বাল পড়লে আর ছানা কেটে যাবে না )
  • রোস্ট মশলা ৩/৪ চা চামচ
  • আদা বাটা ২ চা চামচ
  • রসুন বাটা ১ চা চামচ
  • জিরা গুড়া ১ চা চামচ
  • লবন স্বাদ মত
  • কাঁচামরিচ বাটা ২ টি (একটু ঝাল ঝাল খেতে চাইলে)
  • মরিচ গুড়ো ১/২ চা চামচ বা কিছু কম
  • আলুবোখারা ২/৩ টি
  • মাওয়া ১/৪ কাপ
  • মালাই বা দুধের সর ২ টেবিল চামচ
  • এলাচ , দারুচিনি , তেজপাতা ১ টা করে
  • ঘি ২ টেবিল চামচ
  • কাঁচামরিচ ২/৩ টি
  • কেওড়া জল কয়েক ফোঁটা
  • সামান্য চিনি
  • ১ টেবিল চামচ দুধে সামান্য জর্দার রং গুলে নেয়া (বিয়ে বাড়ির রোস্টের স্পেশাল সেই রং আনতে এটা জরুরি )

১। মাংশ থেকে চামড়া আলাদা করে কাটা চামচ দিয়ে কয়েক জায়গায় একটু কেচে নিন। এতে করে মাংসের ভেতরে থাকা এয়ার বাবল যেমন বের হয়ে যাবে সাথে ভেতরে মশলা ঢুকতে ও সাহায্য করবে। এবার এটাকে লেবুর রস ও লবন দিয়ে মিনিট দশেক মেখে রেখে দিন। তারপর ছড়ানো কোনো কড়াইতে তেল গরম করে এপিঠ -ওপিঠ খুব হালকা করে ভেজে নিন। প্রতি পিঠ ১ মিনিট করে ভাজলেই হবে। আবার বেশি করে ভাজতে যাবেন না যেন তাহলে মাংশ শক্ত হয়ে আঁশ আঁশ যাবে।

২। এবার ওই তেলেই সোনালী করে পেঁয়াজ গুলো ভেজে বেরেস্তা করে রাখুন।প্রয়োজনে আরো কিছুটা তেল দিতে পারেন , পরে তুলে রাখলেই হবে। এই বেরেস্তা ভাজা তেলে একটা দারুন সুগন্ধ হয় যা পোলাউ রান্নায় ব্যবহার করলে ভালো লাগে। ভাজার সময় এতে কিছুটা চিনি ছড়িয়ে দিবেন, তাতে পেঁয়াজ বেরেস্তা বেশ মচমচে হবে আর সুন্দর সোনালী রঙের হবে। খেয়াল রাখবেন বেরেস্তা যেন পুড়ে কালচে না হয় তাহলে রোস্টের রঙেও প্রভাব পড়বে।

৩। রোস্ট মশলা করতে সমপরিমাণ ছোট এলাচ , বড় এলাচ , লবঙ্গ, জায়ফল , জয়ত্রী, গোলমরিচ , শাহী জিরা , দারুচিনি একসাথে ব্লেন্ডারে গুড়ো করে নিয়ে কৌটো ভরে রাখুন। ভেজে নিবেন না যেন..কাঁচা অবস্থায় গুড়ো করতে হবে। এর থেকে জাস্ট ১ চা চামচের থেকে কিছু কিছু কম নিবেন। এই মশলা রোস্ট ছাড়াও অন্যান্য চিকেন আইটেমের সাথেও ভালো মানাবে।

৪। এবার মশলার সাথে বাকি সব একসাথে সামান্য পানি দিয়ে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন।

৫। বেরেস্তা ভেজে রাখা তেলে ঘি মিশিয়ে নিন এবার এতে এলাচ , দারুচিনি , তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে একে একে লবন , কাঁচামরিচ বাটা, আদা, রসুন , জিরা ও মরিচ গুড়া দিয়ে ভালো মত কষিয়ে নিন। তারপর এতে ভেজে রাখা মাংশ ও গোলানো জর্দার রং দিয়ে আরেকটু কষিয়ে নিন। এবার এতে দিন আমাদের সেই স্পেশাল দই-বাদাম-মশলার মিশ্রণ। আবারও কিছুক্ষণ অল্প আচে কষিয়ে নিন।

৬। তারপর এতে ১ কাপ পানি (দেশী মুরগি হলে কিছুটা বেশি লাগবে )দিন ফুটে উঠলে কিশমিশ,আলুবোখারা ও বেরেস্তা গুলো উপর দিয়ে ছড়িয়ে ঢেকে দিন। আঁচ একদম কমানো থাকবে। ১০ মিনিট পর একবার ঢাকনা তুলে চেক করে নিন মাংস পুরোপুরি সেদ্ধ হয়েছে কিনা এবং হালকা করে নেড়ে সব মিশিয়ে দিন । সেদ্ধ হয়ে গেলে মাওয়া , দুধের সর , কেওড়াজল , কাঁচামরিচ ও চিনি দিয়ে মিশিয়ে তেল উপরে না ওঠা পর্যন্ত এভাবেই ঢিমে আঁচে রান্না করুন। এ পর্যায়ে আপনার ৩/৫ মিনিট মত সময় লাগতে পারে।
এবার নামিয়ে উপরে আরো কিছুটা বেরেস্তা ও মাওয়া ছড়িয়ে পোলাউ বা বিরিয়ানির সাথে পরিবেশন করুন। তবে আমি মাঝে মাঝে এটা পরোটা দিয়েও পরিবেশন করে থাকি। খেতে অনেক মজা।

কিছু টিপস :


৭। ওই ১ কাপ পানির বদলে চাইলে আপনি দুধ ও দিতে পারেন। কিন্তু দুধ দিলে যে সমস্যা হয় সেটা হলো মাংস সেদ্ধ হওয়ার আগে দুধ শুকিয়ে যায় এবং কেমন যেন একটা আঠালো ভাব চলে আসে। যদি মনে করেন দুধ দিলে টেস্ট বাড়বে সেটা ভুল….যেখানে যেটা দরকার সেখানে সেটা দিলেই বরং ভালো। আর তাছাড়া মালাই, মাওয়া , দই এগুলো তো দেয়াই হচ্ছে শুধু শুধু দুধ না দিলেই ভালো।

৮। আর পেঁয়াজ এর ক্ষেত্রে চাইলে বেরেস্তার অর্ধেকটা বাটা পেঁয়াজ ও ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু যে স্বাদ আর গন্ধ আপনি বেরেস্তা দিলে পাবেন সেটা বাটা পেঁয়াজে আসবে না। তাই আমার মতে পেঁয়াজ পুরোটা বেরেস্তা করে দিলেই ভালো।

৯। শেষকথা আপনি যদি মনে করেন বিয়ে বাড়ির স্বাদেই রোস্ট বানাবো তাহলে প্লিজ কোনো উপকরণ বাদ দিবেন না। পারলে দেশী মুরগী ব্যবহার করবেন। যেভাবে বলা আছে একবার সেভাবে করেই দেখুন…ইনশাআল্লাহ আপনার রোস্ট ও স্বাদে-গন্ধে-দর্শনে কোনো অংশেই বিয়ে বাড়ির বাবুর্চির করা রোস্টের থেকে কম হবে না।

Tags

Related Articles

One Comment

Leave a Reply

Back to top button
Close