ডেজার্টপিঠা পুলি

পাকোন পিঠা

অনেক ছোটবেলায় একবার আমার সেজকাকীর সাথে ওনার বাবার বাড়ি বরিশালে গিয়েছিলাম।  মনে আছে…প্রায় বেশির ভাগ বাসাতেই আমাদের এই পিঠটা খেতে দিয়েছিলো  আর আমি সব বাসাতেই বসে সবগুলো সাবাড় করেছিলাম আর মনে মনে আরো খেতে চাইছিলাম।  যদিও লজ্জায় আর সেটা চাওয়া হয় নি ;)

পিঠাটা এতটাই মজা যে আপনি একবার না বানানো পর্যন্ত বুঝতে পারবেন না। আর বানানোর নিয়মটাও খুবই সহজ। তারপরও ছোট্ট একটা ”কিন্তু ” আছে। আর সেটা হলো অল্প আঁচে না ভাজলে আর অতিরিক্ত গরম সিরাতে পিঠা ফেললে পিঠার গায়ে ঠোস খেয়ে যাবে সাথে ভেতরে শক্ত রয়ে যাবে।  টিপসসহ রেসিপি থাকলো , ইনশাআল্লাহ আপনাদের ভালো লাগবে।

উপকরণ :


  • নারকেল দুধ ১ কাপ
  • ডিম , বড় ১ টি
  • ময়দা ১/২ কাপ বা প্রয়োজনমতো
  • ঘি ১ চা চামচ

* পারলে ফ্রেশ নারকেল দুধ ব্যবহার করবেন তবে সেটা না পেলে ক্যানড বা গুঁড়ো নারকেল দুধ ও ব্যবহার করতে পারেন।

* আর যদি নারকেল দুধ না দিতে চান তো নরমাল দুধ দিয়েও একই নিয়মে বানাতে পারবেন।

সিরার জন্য :

  • চিনি ১ কাপ
  • পানি ২ কাপ
  • কেওড়া জল ২/৩ ফোঁটা
  • তেল ১ কাপ ভাজার জন্য

প্রণালী :


১। প্রথমেই পানি ও চিনি জ্বালিয়ে সিরা করে নিতে হবে। এজন্য আপনাকে কোনো ”এক তার-দুই তার – সেতার” যুক্ত সিরা বানানোর দরকার নেই। জাস্ট চুলায় দেয়ার পর সিরা টগবগ করে ২/১ বার ফুটে উঠলেই নামিয়ে নিন। তারপর কেওড়া জল টা দিয়ে মিশিয়ে নিন। এর মানে হচ্ছে আপনার সিরাটা মিষ্টি ঠিকই হবে কিন্তু অনেক পাতলা হবে যাতে করে আপনার পিঠার ভেতর খুব ভালোভাবে সিরা ঢুকতে পারে।

২।  একটা ছোট সসপ্যানে ১ কাপ নারকেল দুধ ও ঘি দিয়ে মাঝারি আঁচে দুধটাকে গরম করতে দিন।  দুধে হালকা বলোক এসে গেলে এতে অল্প অল্প করে ময়দা মিশিয়ে রুটির খামিরের মতো করে কি করে নিন।  আপনি চাইলে ঘি বাদ দিতে পারেন, কারণ নারকেল দুধেও অনেক তেল থাকে।  ঘি দেয়ার উদ্দেশ্য হলো কাইটা যাতে বেশি স্টিকি না হয়ে যায়। ময়দার পরিমানটা আমি ১/২ কাপ লিখেছি কারণ আমার ওই পরিমান লেগেছে। আপনি একটু নিজের আন্দাজে দিবেন।

৩। এবার কাই তাকে একটা ছড়ানো পাত্রে ঢেলে ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হওয়ার পর এতে একটা ডিম দিয়ে ভালো করে মেখে খামির তৈরী করে নিন। যদি দেখেন মাখানোর সময় হাতে লেগে যাচ্ছে তো হাতে সামান্য ঘি/তেল মেখে নিতে পারেন। চাইলে এসময় এক চিমটি লবন দিতে পারেন। তারপর ঢেকে মিনিট পনেরো রেখে দিন।

৪। এবার মাখিয়ে রাখা খামির থেকে ছোট ছোট বল বানিয়ে নিন। এভাবে সরাসরি বল গুলোই ভাজতে পারেন বা হাতের তালুতে বলগুলো হালকা চাপ দিয়ে চ্যাপ্টা করে নিতে পারেন অথবা চ্যাপ্টা করার পর সন্দেশ বানানোর মাটির ছাঁচে ফেলে  একটু নকশা করে নিতে পারেন। আমি টুথপিক দিয়ে একটু ফুলের মতো নকশা করে নিয়েছি। এছাড়া যেভাবে আপনার মন চায় সেভাবেই  নকশা করতে পারেন।

৫। এবার ভাজার পালা…মাঝারি আঁচে তেল গরম করে নিন। তারপর আঁচ নিম্ন মাঝারি করে নিন। এবার ৪/৫ টি করে পিঠা গরম তেলে ফেলে ভাজতে থাকুন। আবারো বলছি তাড়াহুড়া না করে সময় নিয়ে ভাজুন। জোরে আঁচে বা অতিরিক্ত গরম তেলে ভাজলে পিঠার বাইরের অংশ বাদামি হলেও ভেতরে কাঁচা থেকে যাবে , ফলাফল ভেজানোর পর আপনার পিঠার ভেতরে রস ঢুকবে না এবং শক্ত রয়ে যাবে। তাই নিম্ন মাঝারি আঁচে ধীরে সুস্থে পিঠার দুইপাশ হালকা বাদামি হওয়া পর্যন্ত ডুবোতেলে ভাজুন।

৬। এবার সিরাতে ভেজানোর পালা। পিঠা ভাজা হয়ে যাবার সাথে সাথে তেল থেকে তুলে উষ্ণ সীরাতে ছেড়ে দিন। তবে সাবধান সিরাটা যেন কোনো ভাবেই খুব বেশি গরম না হয় , তাহলে কিন্তু আপনার পিঠা চুপসে যাবে। তাই আঙুল ডোবানো যায় এমন গরম সিরাতে ভাজা পিঠাগুলো ছাড়ুন। আর তেল থেকে তোলার পর তেল ঝরানোর জন্য অনেকক্ষন ধরে না রেখে টপাটপ তেলথেকে তুলে সিরাতে ফেললে ভালো ফলাফল পাবেন।

৭। সিরাতে পিঠা দেয়ার ১৫/২০ মিনিটের মধ্যেই পিঠা ফুলে দ্বিগুন হয়ে উঠে। চাইলে তখন খাওয়া যাবে। তবে আপনি যদি একটু বেশি সময় সিরাতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন তো আসল স্বাদ টা পাবেন। আমি রাতে বানিয়ে ভিজিয়ে রেখেছিলাম। সকালে খেয়ে দেখি জাস্ট অমৃত। এত এত এত বেশি মজা আর রসে টইটুম্বুর হয়ে ছিল যে বলে বোঝানো যাবে না। তাই অবশ্যই একবার বানিয়ে দেখবেন , আপনি এর প্রেমে পরে যাবেন। কিন্তু একটু সাবধানে টিপস গুলো মেনে বানাবেন প্লিজ।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button