আনুষ্ঠানিক রেসিপিঈদ স্পেশাল রেসিপিডেজার্টবিয়ে বাড়ি রেসিপিমিষ্টিমেনুরাতের খাবারসেহেরি ও ইফতার রেসিপি

তুলতুলে রসমালাই রেসিপি

ছবিতে যতটা ইয়াম্মি দেখা যাচ্ছে তার থেকেও অনেক বেশি ইয়াম্মি হয়েছিল এই রসমালাই টা। একদম সফট, স্পঞ্জি অ্যান্ড জুসি…ইয়াম ইয়াম ..

উপকরনঃ


  • ফুল ক্রিম দুধ – ১ লিটার-(দুধ ভালো না হলে মিষ্টি আশানুরূপ হবে না। তাই অবশ্য’ই ভালো মানের পূর্ণ ননী যুক্ত দুধ নিবেন। )
  • টক দই  – ১ কাপ – (আমি সিরকা/লেবু  দিয়ে করি না, ছানাতে এগুলের একটা গন্ধ থেকে  যায়, তাছাড়া দই দিয়ে করলে ছানাটা বেশ সফট লাগে আমার কাছে )

সিরার জন্য :


  • চিনি – ৩-৪ কাপ
  • পানি – ৬-৮ কাপ

রসের জন্য :


  • ফুলক্রিম দুধ ২ লিটার
  • চিনি স্বাদমতো

প্রনালিঃ


১। চুলায় দুধ দিয়ে ফুটতে দিন। বলোগ এসে গেলে দই একটু ফেটে নিয়ে দুধে ঢেলে দিয়ে চামচ দিয়ে নেড়ে মিশিয়ে দিন।

২। ছানা ও সবুজাভ পানি আলাদা হয়ে গেলেই চুলা বন্ধ করে দিন। একটা ছাঁকনির উপর সুতি কাপড় রেখে ছানা থেকে এই পানিটা ফেলে সাথে সাথে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। এতে করে ছানা শক্ত হবে না এবং মিষ্টি অনেক সফট হবে।

৩। এবার ঘন্টা দুয়ের জন্য কাপড় সহ ছানা টাকে ঝুলিয়ে বাড়তি পানি ঝরিয়ে নিন। পানি ঝরার আগে ছানাটাকে খুব বেশি চিপবেন না। একা একা পানি ঝরে গেলেই আপনি সফট রসগোল্লা বানানোর পারফেক্ট  ছানা টা পাবেন ।

৪। ছানা  হাতের তালু দিয়ে হালকা  করে ডলে ডলে ছানুন। মাখানোর  ছানা টা মসৃন হবে এবং বল বানালে তাতে কোন চিড় থাকবে না, একদম মসৃন বল হবে তখন বুঝবেন ছানা একদম রেডি। মনে রাখবেন রসমালাই বানানোর জন্য ছানাতে কোনো ময়দা বা সুজি দিবেন না।  রসমালাই এর জন্য মিষ্টি টা অবশ্যই স্পঞ্জ মিষ্টির মতো হবে।

৫। এবার ছানাটাকে ছোট ছোট গোল  বা লম্বা  বল বানান । চিনি ও পানি দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। টগবগ করে ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে নিম্ন মাঝারি করে দিন। এবার  বলগুলো ছেড়ে ভালকরে ঢেকে দিন। মিনিট ৫/৬ এর জন্য, তারপর ঢাকনা খুলে দিন। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে বলগুলো ফুলে প্রায় ডাবল হবে। সব মিলিয়ে ৩০ মিনিট মত  ফুটতে দিন তারপর চুলা বন্ধ করে ওভাবেই ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন ।

৬। ঠান্ডা হলে সাবধানে বাটিতে উঠিয়ে রাখুন। এবার আর একটা পাত্রে ২ লিটার দুধ ও আপনার স্বাদ অনুযায়ী চিনি দিয়ে জ্বালাতে থাকুন। চিনিটা আসলে পরে দিলে ভালো হয়। ক্রমাগত নেড়ে নেড়ে ঘন করে ১ লিটারের কিছু কম করে নিতে হবে। ঘন হয়ে যাওয়ার পর চিনিটা অ্যাড করলে আর মিষ্টি বেশি হওয়ার ভয় থাকে না।

৭। তারপর এই ঘন দুধের মধ্যে আগে থেকে বানিয়ে রাখা মিষ্টিগুলো ছেড়ে ঘড়ি ধরে ৩ থেকে ৫ মিনিট জ্বাল করুন। এর বেশি করবেন না। মিষ্টি শক্ত হয়ে যেতে পারে। তারপর চুলা থেকে নামিয়ে মিনিমাম ৩-৪ ঘন্টা ওভাবেই রেখে দিন। এতে করে মিষ্টিতে রস, মালাই সব ভালো করে ঢুকে যাবে। এবার পরিবেশনের পালা।

টিপস :


১। ছানা বানানোর সময় বেশিক্ষণ ফুটাবেন না।   ছানা ও সবুজাভ পানি আলাদা হয়ে গেলেই চুলা বন্ধ করে দিন।  নাহলে ছানা শক্ত হয়ে যাবে।

২।  ছানা একদম বরফ ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুলে ছানাটা  সফট ও স্পঞ্জি হয়।

৩। হাত দিয়ে প্রানপ্রনে চিপে ছানা থেকে পানি বের করার চেষ্টা করবেন না। ঝুলিয়ে রাখার পর একা একা পানি ঝরে গেলেই আপনি সফট রসগোল্লা বানানোর পারফেক্ট  ছানা টা পাবেন ।

৪। ছানাটা যখন মাখবেন ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে হাত ব্যাথা করে মাখার প্রয়োজন নেই।  মিনিট ৫ মাখলেই হবে।  ডলে ডলে ছানা’র জান বের করার কিছু নেই ..এতে মিষ্টি চুপসানো হবে।

৫।  একদম টগবগে পানিতে ছানার বল ছাড়বেন না… তাতে মিষ্টি দ্রুত ফুলতে ফুলতে ফটাস করে ফেটে যাবে।  আর বেশিক্ষণ ঢেকে রেখে ও জ্বাল দিবেন না….তাতেও মিষ্টি ফেটে যায়।

৬।  জোরে আঁচে মিষ্টি বানালে মিষ্টি চুলায় থাকতে ফুললেও নামলে আস্তে আস্তে আবার চুপসে যায়।  সেটা নিশ্চয়ই কেও চান না।  তাই নিম্ন মাঝারি আঁচে মিষ্টিকে ধীরে ধীরে ফুলতে দিন , সেটা অটুট থাকবে। আবার তাই বলে অনেক বেশি সময় নিয়েও ফুটাবেন না। তাতেও মিষ্টি শক্ত হয়।

৭। সিরা বেশি ঘন করবেন না।  স্বাদ অনুযায়ী সিরা মিষ্টি রাখবেন কিন্তু পাতলা হতে হবে।  নাহলে মিষ্টির ভেতরে সিরা ঢুকবে না আর ভেতরে শক্ত থেকে যাবে।

৮।  ২৫-৩০ মিনিট ফুটানোর পর একটা মিষ্টি তুলে ঠান্ডা পানিতে ফেলুন যদি ডুবে যায় তাহলে বুঝবেন হয়ে গিয়েছে।  এরপর আর খুব বেশিক্ষণ ফুটাবেন না।  সব মিলিয়ে ৩৫-৪০ মিনিট মত  ফুটতে দিন তারপর চুলা বন্ধ।

৯।  ভেতরে মিষ্টি ঢুকলে ভাঙ্গার পর  রসগোল্লার বাইরে ও ভেতরে একই কালার থাকবে।  না ঢুকলে ভেতরে সাদা বেশি দেখা যাবে।

১০। আর যে হাড়িতে মিষ্টি বানাচ্ছেন সেটা যেন বেশ বড় হয়।  মিষ্টি গুলো যেন হেসে খেলে দৌড়াদৌড়ি করতে পারে ফোটানোর সময়।  ছোট পাত্রে ঠাসা-ঠাসি করে বানাতে যাবেন না।  এতে ঠিকমত ফুলবে না আর ফুললেও চ্যাপ্টা শেপ হবে।

১১।  আর একটা কথা অস্থির হবেন না ….একবারেই সবাই সবকিছু পারে না।  আমি প্রথম প্রথম যখন বানাতাম, মিষ্টি এতটাই শক্ত হত যে…কারো গায়ে মারলে যে ব্যাথা পেত নির্ঘাত।  তারপর ও আমি চেষ্টা করে গিয়েছি।  অনেক সময় + দুধ +দই+চিনি নষ্ট করার পর আজ আমি মোটামুটি বেশ ভালই বানাতে পারছি।  এই যে টিপস গুলো দিলাম এর সব ই আমার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া।  তাই যদি প্রথম বারেই না পারেন মন খারাপ করার কিছু নেই।  ভালো থাকবেন সবাই।

 

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close